শান্তিনিকেতন, বীরভূম — ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটি নিয়ে নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বীরভূমে ডিউটি শেষ হতে না হতেই অধ্যাপকদের কয়েকশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ডিউটি দেওয়া হয়েছে। এই সূচিকে “মানবিক ভাবে অসম্ভব” এবং “অমানবিক” বলে বর্ণনা করে উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষকে আজ একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন অধ্যাপকরা।
বীরভূম থেকে সাগর দ্বীপ: অসম্ভব এক যাত্রা
অধ্যাপকদের প্রধান অভিযোগ হলো ডিউটির সময়সীমা ও ভৌগোলিক দূরত্ব নিয়ে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে:
- বিরতিহীন ডিউটি: বীরভূমে ডিউটি শেষ করার ঠিক পরের দিনই (২৮শে এপ্রিল সকালের মধ্যে) তাঁদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
- ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ: বীরভূম থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপ বা কাকদ্বীপের মতো এলাকায় পৌঁছাতে যেখানে দীর্ঘ সময় এবং একাধিকবার যাতায়াত মাধ্যম পরিবর্তন করতে হয়, সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে এই যাত্রা কার্যত অসম্ভব।
“আমরা শিক্ষক, রোবট নই”: অধ্যাপকদের ক্ষোভ
বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তা করতে আগ্রহী, কিন্তু যে ধরনের সূচি তৈরি করা হয়েছে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
“একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে যাতায়াতের কোনো সুব্যবস্থা নেই। বীরভূম থেকে ফিরে পরদিন ভোরেই সাগর দ্বীপে পৌঁছানো কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। এটা প্রশাসনিক অবিবেচনা ছাড়া আর কিছুই নয়,” চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপকরা।
শিক্ষাদানে ব্যাঘাত ও শারীরিক ক্লান্তি
অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের এই ধারাবাহিক ডিউটির কারণে তাঁদের নিয়মিত পঠনপাঠন এবং গবেষণার কাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার ফলে এই প্রচণ্ড গরমে দূরপাল্লার যাত্রা তাঁদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি
উপাচার্যকে দেওয়া ওই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (EC) সঙ্গে কথা বলে এই ডিউটি পুনর্বিবেচনা করে। অধ্যাপকদের দাবি, তাঁদের যেন বীরভূম বা আশেপাশের জেলাতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় অথবা ডিউটির মাঝে অন্তত দুই দিনের বিরতি দেওয়া হয়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, উপাচার্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে এই বিশাল সংখ্যক কর্মীর ডিউটি পরিবর্তন করা কমিশনের পক্ষে বেশ কঠিন হতে পারে।
শান্তিনিকেতনের শিক্ষামহলের এই আন্দোলন এখন অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক অধ্যাপকই এখন আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।
