নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই সামনে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভোটের হার পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা—এই তিন জেলায় গড়ে ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল।
রেকর্ড ভাঙা ভোটের পরিসংখ্যান
গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী জেলাভিত্তিক ভোটের হার একনজরে:
- কোচবিহার: ৯৩.৮%
- দক্ষিণ দিনাজপুর: ৯৩.২%
- মালদা: ৯৩.৫%
তীব্র গরম এবং রাজনৈতিক উত্তাপকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও অবাক করে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বিপুল জনসমর্থন কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে অথবা বর্তমান সরকারের পক্ষে এক বিশাল রায়।
কেন এই রেকর্ড ভোট?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চ শতাংশের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
১. সচেতনতা বৃদ্ধি: কমিশনের প্রচার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেছে।
২. নিরাপত্তার আশ্বাস: বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারার কারণে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন।
৩. রাজনৈতিক মেরুকরণ: প্রধান দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ভোটারদের বুথমুখী করেছে।
কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রথম দফায় মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। আমরা আশা করছি আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণেও (১৪২টি আসন) একই ধরণের উৎসাহ বজায় থাকবে।” দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ভোট না কি উত্তেজনা?
কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর পাওয়া গেলেও সার্বিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই দাবি কমিশনের। তবে বিপুল ভোটের হার নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসক দল তৃণমূলের দাবি, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, মানুষ পরিবর্তনের সপক্ষে রায় দিতেই বুথে আছড়ে পড়েছেন।
