ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগণা — ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার প্রচারের শেষ লগ্নে এসে আজ ব্যারাকপুরে এক ঐতিহাসিক জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গল পাণ্ডের স্মৃতিধন্য এই পুণ্যভূমি থেকে প্রধানমন্ত্রী আজ দাবি করেছেন যে, বাংলায় পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে এবং আগামী ৪ঠা মে ভোটের ফলের পর তিনি নতুন বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আবারও কলকাতায় আসবেন।
“৪ঠা মে-র পর নতুন ভোর”: আত্মবিশ্বাসী মোদী
বিজয় সংকল্প র্যালিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ কর্মীদের চাঙ্গা করে বলেন, “যেখানেই গেছি, মানুষের চোখে পরিবর্তনের খিদে দেখেছি। আমি আজ আপনাদের কথা দিচ্ছি, ৪ঠা মে ফলাফল বেরোনোর পর আমি আবারও আসছি আপনাদের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সামিল হতে।” তাঁর এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও অর্থনৈতিক অবনতির কড়া সমালোচনা
ব্যারাকপুরের শিল্পাঞ্চল, বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন:
- বন্ধ কারখানা: “আগে যেখানে মিলের ভোঁ বাজার শব্দ শোনা যেত, আজ সেখানে তৃণমূলের সিন্ডিকেট আর তোলাবাজির রাজত্ব চলছে। এক ডজনেরও বেশি জুটমিল বন্ধ করে দিয়েছে এই সরকার।”
- বোমা ফ্যাক্টরি: “তৃণমূলের আমলে বাংলায় কর্মসংস্থান কমেছে, কিন্তু বোমা তৈরির কারখানা বেড়েছে। এই সিন্ডিকেট রাজ বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।”
কৌস্তভ বাগচীর সমর্থনে প্রচার
ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী-র সমর্থনে আজ প্রধানমন্ত্রী এই সভা করেন। তৃণমূলের প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং সিপিএম প্রার্থীর সাথে এই কেন্দ্রে এবার ত্রিমুখী লড়াই। প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যারাকপুরের শিল্পাঞ্চলকে রক্ষা করতে এবং সিন্ডিকেট মুক্ত করতে কৌস্তভকে জেতানো অত্যন্ত জরুরি।
৫ দফা কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি
যুব সমাজকে কাছে টানতে মোদী আজ বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেছেন:
- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত সরকারি নিয়োগ।
- কেন্দ্রীয় হারে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করা।
- রাজ্যের শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ।
- গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি।
- মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৩% সংরক্ষণ।
ভোটের দিনক্ষণ ও নিরাপত্তা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ৯২ শতাংশের ওপর রেকর্ড ভোট পড়েছিল। আগামী ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে মোদীর এই ব্যারাকপুর সফর বিজেপির পালে হাওয়া কাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে ৪ঠা মে-র পরও এক সপ্তাহ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
