কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ — ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ফের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে কলকাতার একটি স্থানীয় বাজারে আচমকা হানা দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। এই সফরের মাধ্যমে তিনি যেমন আলুর দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন, তেমনই নিজের “ঘরের মেয়ে” ইমেজকে আরও একবার ঝালিয়ে নিলেন।
বাজার সফরে ‘ঘরের মেয়ে’
সকালে সাদা শাড়ি আর হাওয়াই চটি পরেই বাজারে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। কোনো রকম প্রোটোকল ছাড়াই তিনি পৌঁছে যান সবজি বিক্রেতাদের স্টলে। সেখানে গিয়ে তিনি:
- সরাসরি বিক্রেতাদের কাছ থেকে পাইকারি ও খুচরো দর জানতে চান।
- আলুর দাম কেন বাড়ছে এবং জোগানে কোনো সমস্যা আছে কি না, তা নিয়ে কথা বলেন।
- সাধারণ মানুষের থলেতে কী কী উঠছে, তার খোঁজ নেন।
বাজারের ভিড়ের মধ্যেই তিনি এক বিক্রেতার কাছ থেকে এক কেজি কাঁচা লঙ্কা ও আলু বেছে নেন। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মহিলা বিক্রেতারাও তাঁদের সমস্যার কথা খুলে বলেন।
কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ: “রান্নাঘরে আগুন লাগিয়েছে বিজেপি”
বাজার থেকেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন,
“ভোট এলেই ওরা ডাল-ভাতের গপ্পো দেয়, আর ভোটের পর আলুর দাম বাড়ে। রান্নার গ্যাসের দাম আর পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। আমরা এখানে সুফল বাংলার স্টল দিয়েছি যাতে মানুষ সস্তায় সবজি পায়, কিন্তু কেন্দ্রীয় নীতি না বদলালে সাধারণ মানুষ বাঁচবে কী করে?”
রাজনৈতিক কৌশল বনাম জনসংযোগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজার সফর কেবল মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার পাল্টা হিসেবেই মমতা এই “বাজারি আউটরিচ” বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে বিজেপি বড় বড় র্যালি আর রোড-শোতে জোর দিচ্ছে, সেখানে মমতা সরাসরি আমজনতার হেসেলের খবর নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে চাইছেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য প্রকল্প
বাজারে উপস্থিত মহিলাদের সাথে কথা বলার সময় তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা ঠিকঠাক পাচ্ছেন কি না, তাও নিশ্চিত করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় ফিরে এলে এই প্রকল্পের অনুদান আরও বাড়ানো হতে পারে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই বাজার সফর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। যদিও তিনি একে অরাজনৈতিক সফর বলে দাবি করেছেন, কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নে কলকাতার বাজারে মমতার এই উপস্থিতি দ্বিতীয় দফার ভোটে (২৯শে এপ্রিল) বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
